ডিজিটালি বীমা কি সত্যি পথ দেখাবে

বাংলাদেশের বীমা শিল্পের ইতিহাস নেহায়েতই অল্প ক’দিনের নয়। বরং স্বাধীনতা উত্তর এ খাত যেমন উপমহাদেশে ভূমিকা রেখেছিলো, তেমনি ভূমিকা রাখছে আজো। তবে দীর্ঘ পথ পরিক্রমায়, খাতটিতে গ্রাহক সন্তুষ্টি খুব যে একটা পেয়েছে এমন দাবি কোনো প্রতিষ্ঠানই তেমন করে করতে পারবে না। খাতটি দীর্ঘ সময় ধরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত থাকলেও সময়ের দাবিতে তা এখন অর্থমন্ত্রণালয়ের আওতাভূক্ত।
দেশের বেশ কটি বীমা প্রতিষ্ঠান দাবি করছে যে তারা তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করছে ডিজিটাল পদ্ধতিতেই। ফলে তারা ব্যবহার করছেন প্রচলিত পাস বই।

তবে, প্রচলিত সকল বীমা প্রতিষ্ঠানের মতোই এসব প্রতিষ্ঠানের বীমাকর্মীরাও নিজেদের উদ্যোগেই বীমা পলিসি বিক্রি করে থাকেন। এদিকে প্রচলিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মতোই এসব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের একটা বড় অংশ এখনো এইসব কর্মীদের ওপরই নির্ভর করে থাকেন। এতে গ্রাহকেরা তাদের মাসিক ,ষান্মাষিক, ত্রৈমাসিক বা বাৎসরিক প্রিমিয়ামের টাকা গুলো নিজে না দিয়ে কর্মীদের বিকাশ, রকেট, নগদ বা হাতেই দিয়ে থাকেন। নিজেদের অ্যাকাউন্ট থেকে এই টাকা কোম্পানির হিসাব নম্বরে পাঠাতেও দেখা যায় কর্মীদের।


প্রশ্ন হলো কর্মী অসৎ হলে, গ্রাহকের বিশ্বাসকে পুঁজি করে সহজেই এই টাকা তছরুপ করতে পারে। আবার পর পর তিন কিস্তি না দিলে পলিসিটি ল্যাপস পলিসি হিসেব গণ্য হয়। যদিও অনাদায়ি পর পর তিন কিস্তিতে কাষ্টমার কেয়ার ফোন করলেও, ল্যাপস পলিসিতে ফোন কল করা হয় না। ধরা যাক কোনো কর্মী যদি তার বিশ্বাসী দশজন গ্রাহকের এক হাজার টাকা মাসিক প্রিমিয়ামের পাঁচটি করে প্রিমিয়ামের টাকা জমা না করে কাজ ছেড়ে দেন , তাহলে অনাদায়ি থেকে যায় পঞ্চাশ হাজার টাকা। আর এইসব বীমাপত্রের চুক্তি হিসেবে বীমাঅংকের না হলেও পঞ্চাশ লক্ষ টাকার উপযোগিতা নষ্ট হয়।
ডিজিটাল কোম্পানিগুলোতে এ সুযোগ এখন অনেক বেশি।
অন্যদিকে ব্যাংক প্রচলিত অর্থেই এ ধরণের কার্যকলাপের আওতামুক্ত।

লেখকঃ আবু ওবায়দা টিপু
(চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *